দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিশ্বফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট কার মাথায় উঠবে, সেই প্রশ্নের উত্তর মিলবে আজ। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফিফা বিশ্বকাপের বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা স্পেনের। বাংলাদেশ সময় রোববার দিবাগত রাত ১টায় শুরু হওয়া এই মহারণে স্পেনকে এগিয়ে রাখছেন অনেকেই। তবে শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার পক্ষেও রয়েছে কয়েকটি বড় 'এক্স ফ্যাক্টর', যা গড়ে দিতে পারে ম্যাচের ভাগ্য।
যদিও এই টুর্নামেন্টে লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেন টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থেকে টিকিটাকা ও গতিময় ফুটবলের এক দুর্দান্ত প্রদর্শনী দেখিয়েছে, তবুও শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনা মোটেও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
লিওনেল মেসির অতিমানবীয় ফর্ম:
৩৯ বছর বয়সে এসেও লিওনেল মেসি এই বিশ্বকাপে দলের প্রধান চালিকাশক্তি। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে ৮ গোল নিয়ে মেসি ৪টি অ্যাসিস্টও করেছেন। বিশেষ করে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার জাদুকরী পারফরম্যান্স দলকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলেছে। ক্যারিয়ারের সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ ফাইনাল হওয়ায় ট্রফি উঁচিয়ে ধরার জন্য মেসির এই একক ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতাই আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
চাপের মুখে ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতা:
পুরো টুর্নামেন্টে স্পেনের পথচলা যতটা মসৃণ ও নিয়ন্ত্রিত ছিল, আর্জেন্টিনার পথটা ছিল ততটাই রোমাঞ্চকর ও কঠিন। নকআউট পর্বে কেপ ভার্দে, মিশর এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে নাটকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে জিতেছে লিওনেল স্কালোনির দল। এই যে বারবার খাদের কিনারা থেকে ফিরে আসার অভিজ্ঞতা এবং যেকোনো স্নায়ুচাপের মুহূর্তে ভেঙে না পড়ার মানসিকতা ফাইনালের মতো হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে তাদের বাড়তি সুবিধা দেবে।
বিধ্বংসী আক্রমণভাগ:
স্পেন যেখানে রক্ষণাত্মক শৃঙ্খলার জন্য পরিচিত, আর্জেন্টিনা সেখানে খেলছে অল-আউট অ্যাটাকিং ফুটবল। চলতি বিশ্বকাপে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ ১৯টি গোল করেছে আর্জেন্টিনা। মেসি, হুলিয়ান আলভারেজদের গড়া এই আক্রমণভাগ যেকোনো মুহূর্তে স্পেনের লাপোর্তে ও কুবার্সির রক্ষণ দেয়াল ভেঙে চুরমার করে দিতে সক্ষম।
মাঝমাঠের ট্যাকটিস ও কাউন্টার অ্যাটাক:
স্পেনের মাঝমাঠের মূল চালিকাশক্তি রদ্রি ও পেদ্রিকে বোতলবন্দী করতে স্কালোনি মাঝমাঠে বিশেষ ট্যাকটিক্স সাজাতে পারেন। রদ্রিগো ডি পল ও এনজো ফার্নান্দেজ যদি মাঝমাঠে স্পেনের পাসিং লেনগুলো ব্লক করে দিতে পারেন, তবে বল কেড়ে নিয়ে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে ওঠা সহজ হবে। বিশেষ করে স্পেনের উইঙ্গাররা যখন ওপরে উঠে খেলবেন, সেই ফাঁকা জায়গা কাজে লাগিয়ে আর্জেন্টিনা দ্রুত আক্রমণ শানাতে পারবে।
গ্যালারির আকাশী-নীল সমুদ্র ও মনস্তাত্ত্বিক সুবিধা:
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের প্রায় ৯০% দর্শকই আর্জেন্টিনার সমর্থক থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই বিপুল দর্শক সমর্থন স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার জন্য হোম গ্রাউন্ডের মতো পরিবেশ তৈরি করবে। পাশাপাশি, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ট্রফি জেতার যে অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাস স্কালোনির দলের রয়েছে, তা তরুণ স্প্যানিশ দলের চেয়ে তাদের কিছুটা হলেও মনস্তাত্ত্বিকভাবে এগিয়ে রাখবে।
কেএম